Showing posts with label স্মৃতির পাতা. Show all posts
Showing posts with label স্মৃতির পাতা. Show all posts

Sunday, February 10, 2019

সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ গাইড

"সাজেক ভ্যালী" মেঘের দেশ কিংবা বাংলাদেশের ছাদ। যেটাই বলিনা কেন। অপরুপ সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

ঢাকার ফকিরাপুল থেকে রাত ১০.৪৫ এ শ্যামলী পরিবহনে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। আমরা ছিলাম ৯ জন। জন প্রতি ভাড়া ছিলো ৫২০ টাকা। ভোরে বাস কাউন্টারে নামাবে আপনাকে। খাগড়াছড়ি নেমেই ফিরতি টিকেট কেটে রাখবেন। তা নাহলে মহাবিপদে পড়ে যাবেন।
১/ শাপলা চত্বরে চাঁদের গাড়ির দাম চড়া দেখে চলে আসতে হলো দীঘিনালায়। সেখান থেকে সকালের নাস্তা সেরে, চেপে বসলাম চাদের গাড়িতে। এরা সবাই আমার বন্ধুমহল। যেতে যেতে সকল খরচ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। সুতরাং আশা করি ভিডিওটি অবশ্যই শেষ পর্যন্ত দেখবেন।
২/ পাহাড় আর ঘন সবুজের মাঝে মেঘের মিতালী দেখতে হলে আপনাকে সাজেক আসতে হবে।
আসার পথে প্রথমেই নামবেন হাজাছড়া ঝর্ণা দেখতে। ঝর্ণার আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন বর্ষাকালে।

Saturday, November 17, 2018

মৃত্যুকামনা

মৃত্যু কখন কাকে গ্রাস করে কেউই জানি না আমরা। তবে সুন্দর মৃত্যু ক'জনের ভাগ্যে থাকে? যে মৃত্যুর পর অনেক মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়, যে মৃত্যুর পর সবার অন্তরের অন্তস্থঃতল থেকে আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, সেই মৃত্যুই তো সৌভাগ্যের। সবার সাথে হাসিখুশি থাকার পর রাতে চোখ বুজে যাওয়া কিংবা তাহাজ্জুদ পরা অবস্থায় মৃত্যু সবার কপালে জোটে না। সকালে তার নিথর দেহ দেখে কারো আফসোস হোক বা না হোক৷ অন্তত মৃত আত্মার আফসোস থাকে না, শান্তি পায়, তার উপর কারো দেনা পাওনা নেই। সবার সাথে দেনা পাওনা মিটানোর পর কিংবা ভুল ভ্রান্তি, ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলে মৃত্যুকে খুব মনে পড়ে আমার। কারণ তখন অন্তত কারো রাগ বা ক্ষোভ থাকবে না আমার উপর।
চোখ বুজে নজরুলের লেখা লাইনগুলো মনে পড়ে,

"আমি চিরতরে দূরে চলে যাব
তবু আমারে দেব না ভুলিতে
আমি বাতাস হইয়া জড়াইব কেশ
বেণী যাবে যবে খুলিতে।"

মৃত্যু কামনা করা পাপের। তবে খোদা তায়ালা সুন্দর মৃত্যু দেক সেটা কামনা করা অন্যায় না।

Tuesday, October 16, 2018

কারণ তুমি যে সুহাসিনী

এক নির্বাক চোখের মায়াতে জীবন সচল হয়েছে। মুগ্ধতায় ভরে যাচ্ছে প্রতিমুহুর্ত। অনুভব করার শক্তিটা হয়েছে গাঢ়। প্রিয় থেকে সে এখন "প্রিয়তা"। যোগ হয় ভালো লাগা কিংবা রাগ। কিন্তু ভালোবাসা বাড়ছে। মনের যে দেয়ালে তোমার নামটা লেখা সেটা আরো দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। সময় এগিয়ে যাচ্ছে সময়ের মত। সুন্দর পরিবর্তন একে একে ধরা দিচ্ছে। যে স্বপ্ন রাতের ঘুমে কিংবা কল্পনায় দেখতে ইচ্ছে হতো, সেটা কিছুটা হলেও ধরা দিচ্ছে আপন মনে। রংতুলির ক্যানভাসে আঁকা তোমার আমার স্বপ্ন মিলে গেছে। হিম শীতল হয়ে ভেসে বেড়ায় তোমার চঞ্চলতা। আমাকে স্পর্শ করে; ক্লান্তিগুলো মুছে দেয় নিমিষেই। দিনশেষে তোমার "হাসি" আমায় ছুঁয়ে যায়, নিবিড়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়...
কারণ তুমি যে সুহাসিনী ❤

Sunday, September 30, 2018

হঠাৎই ছন্দপতন সেই জমকালো আয়োজনের

হঠাৎই ছন্দপতন সেই জমকালো আয়োজনের। সৃষ্টিবোধের তৃপ্তি সবাই বোঝে না। তাই অবুঝের মত বিধ্বস্ত হতে দেখে কারো কারো অনুভুতি-ই জাগে না। মমতাবোধ হয়ত মনে টইটুম্বুর কিন্তু পরম সুখ ভঙ্গের দায় সে নিতে চায় না। যদিও সে অপরাধের বিশালতায় ডুবে রয়েছে কত আগেই। নির্ঘাত স্বপ্নভঙ্গ কেউ চায় না। তবে ঘটনার দূর্ঘটনায় আহত মনের স্বপ্নভঙ্গ হবেই। এক আকাশ বিশালতার বিপরীতে ক্ষুদ্র তাচ্ছিল্য হৃদয়কে টুকরো করে ফেলে। প্রতিটি চরিত্র যখন সামনে ভাসে, তখন আপন মন হেসে আবার নিজেকে কাঁদিয়ে দেয়, কারণ ভুলটা নিজেরই ছিলো। ছিলাম নষ্টের গোড়া। তবে পুরো কাহিনীতে শ্রেষ্ঠাংশ জুড়ে ছিলো ধোঁয়াটে বেদনা। আজন্মলালিত চাওয়া-পাওয়া গুড়েবালি হয়ে যায় অক্ষত এক অপ্রাপ্তিতে। তবে সুন্দর যাত্রাতে শুভকামনা জানাতে লেখকের কুণ্ঠাবোধদয় নেই। এ যাত্রা শুভ হোক। এটাই চাওয়া।

Monday, September 3, 2018

একজন শিক্ষকের বিদায়

"থাকো আসিফ, আর দেখা হবে না। তোমাদের ছেড়ে অন্যত্র যাচ্ছি।" আসলে কথাগুলো হয়ত কম বা ছোট। কিন্তু একজন শিক্ষক যখন তার বিদায় মুহুর্তে এই কথাগুলো বলে তখন মনে একটা কাঁপন ধরে। আর কি দেখা হবে না? কিছু শিক্ষক মনে দাগ কেটে থেকে যায়; মহানুভবতা, সহিষ্ণুতা আর পরম উদারতা দেখিয়ে। স্কুল, কলেজ লাইফে অনেক স্যারকে নতুন চাকরী পাওয়ার পর চলে যেতে দেখেছি। তবে সবার জন্য মন খারাপ হয়নি।
স্কুল লাইফের শান্তুনু কুমার সিংহ স্যার, সালাউদ্দিন স্যার, জামান স্যারের জন্য খারাপ লেগেছিলো। কলেজে কারো বিদায়ে তেমন খারাপ লাগে নি। তবে ভার্সিটিতে এসে কারো কারো বিদায়ে বিষন্নতা কাজ করে। হয়ত শরীফুল স্যারের সাথে ব্যক্তিগত জানাশোনা কম হয়েছে কিন্তু পড়াশুনা সংক্রান্ত অনেক সহযোগিতা স্যারের থেকে পেয়েছি। ৬ষ্ঠ সেমিষ্টার পরীক্ষায় বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার আগের দিন আহমেদ স্যার আর শরীফুল স্যারের কাছে সাজেশন আনতে যাবা পর তারা যেভাবে ২ ঘন্টায় বইটি পুরো বইটি রিভিউ করলো, তাতে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। ঐ পরীক্ষা খুবই ভালো হয়েছিলো। শরীফুল স্যার বড় একটা পড়ার টপিককে ছোট করে চিত্রের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতো ক্লাসেই। পড়াশুনা ছাড়াও বাহিরের টুকিটাকি ব্যাপারে ক্লাসে আলাপ শুরু হলে অল্প কথাতে স্যার ব্যাপারটা বুঝে যেতো। তবে আজকে আমার প্রতি স্যারের শুভকামনা ভালো লাগলো। আমি জানি আমার কথাগুলো অগোছালো ভাবে লিখে যাচ্ছি, কারণ বিদায়টা সবাইকেই কাঁদায়। যেই শিক্ষকরা তার ছাত্রদের সাথে করমর্দন করে, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মানে মাথা নুয়ে আসে। বয়সের কোটা কাছাকাছি হবার পরও ছাত্রদেরকে নিজের কাছের মানুষ ক'জন শিক্ষকই বা মনে করে? হয়ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মানুষদের মন এতটাই উদারতায় টইটুম্বুর থাকে যেখানে জগতের অন্যসব মানুষদেরকেও তারা দামি মনে করে। হতে পারে সেই মানুষটি শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত। ভালো থাকুক আমার প্রিয় শিক্ষকরা। নতুন কর্মস্থল আপনার জন্য শুভ আর সুন্দর হোক।
আর একজন প্রিয় শিক্ষক চলে যাচ্ছেন তবে বাকীরা আশেপাশেই আছেন।

And the fact is, যেখানেই থাকুন না কেন, আপনাদেরকে খুঁজে নেবো সঠিক সময়ে। কারণ আমার বিয়ের কার্ডটা তো আপনার হাতে পৌঁছে দিতে হবে।

Friday, August 31, 2018

মানসিক শক্তি

হয়তবা তখন উন্মুক্ত চিন্তা ঝাঁপিয়ে বেড়াতো। মুক্ত একটা আকাশে নিজের ইচ্ছেগুলো ছড়িয়ে দিবো, ক্যানভাস বানাবো সেই আকাশটাকে। বড় বড় চুল, সাথে গিটারের মূর্ছনায় গলা ছেড়ে একটার পর একটা গান হবে। যেখানে নতুন প্রেমের উচ্ছ্বাসে ঘুম হবে না। পাশেই বন্ধুদের তাশ খেলা চলবে। গিটার রেখে চাদর মুড়ি দিয়ে শীতের রাতে আবাসিক হল থেকে বের হয়ে এলাকার পুরোনো চায়ের দোকানে গরুর সরের চা খাব। হলে ফিরে ২-৩ ঘন্টার মরা ঘুম আর তারপর তড়িঘড়ি করে ক্লাসে গিয়ে স্যারের বকুনি শুনে ক্লাসের বাইরে পায়েচারী। ক্লাস শেষে বন্ধুদের নিয়ে নোটগুলো রেডি করা আর দুপুরে ২০ টাকায় নিজের উদরপুর্তি। খাওয়া শেষে ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় গাছটার নিচে বিশ্রাম নেয়া আর পোড়া মনে একটা গানের সুর তোলা। শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখা আর তাঁকে অনুভব করা। নিজের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটিকে ভালো লাগা কিন্তু কখনই তাকে না বলা। রাত ৩টায় বন্ধুর অসুস্থ হয়ে যাওয়া আর বাকী রাতটা হাসপাতালের চেয়ারেই তার জ্ঞান ফেরার অপেক্ষা। চোখ খোলার পরই ঠাস ঠুস দুটো চড় দেয়া ; কান্নাভেজা কন্ঠে তাকে ঘুমের ওষুধ না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করানো......
_________________________________

একাডেমীক দূর্বলতায় হয়ত স্বপ্নগুলো বাস্তব হয়নি। অধরা সপ্নের মাশুল গুনতে হয় আর সেটাকে চেপে দেয়া যায় না। নিজের মানসিকতাকে বিস্তর পর্যায়ে রাখতে বিশালতা দরকার। বিশাল আকাশ যে দেখেনি সে কখনই এর মর্ম বুঝবে না। "সবাই আমার কাছে সমান" এই কথাটুকু খুব কমই শোনা যায়। আর ২ থেকে ৩ জনের মুখে এই কথা শুনেছি। সবাই বলতে পারে না এই বড় কথাটা। বললেও সেটাকে ঠিক রাখতে পারে না। মনুষ্য চিন্তনে শুধু ঠেলে পিছে পাঠানোর প্রতিযোগিতা চলে। দৌড়াতে গিয়ে ল্যাং মারা বা হাডুডু খেলায় পারদর্শিতা এখানের যথেষ্ট উদাহরণ। নিজে নিজে এক প্রকার "দম্ভ খেলা"র উত্থান করা আর বসে বসে সেটাকে উপভোগ করাটা; হীনমন্যতার আরেকটা বৈশিষ্ট্য। নিজের আখের ঠিক রেখে বাকী দুনিয়ার অশান্তি শান্তিতে অনুভব করার নগ্ন চরিত্র রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। আমাদের চিন্তার অপরিপক্কতা আর অসষম জীবনাচরণ থেকে পরের প্রজন্ম সেই দুশ্চরিত্র মনোভাব অর্জন করবে। জাতিগত ভাবে হয়ত এইকারণেই আমরা পশ্চাদপদতায় ভুগছি। যখন একটা প্লাটফরমেই আমাদের অসষম আর হীন প্রতিযোগিতা, জোটবদ্ধ হয়ে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হয় সেখানে আর যাই হোক জাতির অগ্রদূত তৈরি হয় না। হাস্যোজ্জ্বল আর প্রাণোচ্ছল একটা গণ্ডি হারিয়ে যেতে বসে। স্বভাবতই সেখানে কিন্টারগার্ডেনের মত ভালো ফলাফল নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগে কিংবা পুরাতনদের বিদায়ে নতুন চাটুকারদের উপস্থিতি তৈরি হয়। ঠিক যেন দেশীয় রাজনীতির প্রভাব; সবখানেই চর্চা চলে।
আশংকার জাল মনে দানা বেঁধেছিলো আজ থেকে আরো কয়েক বছর আগে। সেটাই সত্যি হতে চলেছে। তবে কিছু কাঙ্ক্ষিত বা অনাঙ্ক্ষিত মায়াজাল আমাদের বেঁধে রাখে। আর তাদের জন্যই হয়ত "সাহস" হারিয়ে যায় না। উপরন্তু, প্রতিরোধের শক্তি হিসেবে কাজ করে এবং আরো শক্ত করে তোলে।

Sunday, May 7, 2017

বন্ধু তুই কই?

বন্ধু তোরে খুঁজি আজো
হারিয়ে গেলি কই?
আজ যে আমি খুব একা
সঙ্গীহীন রই।
তোর সাথে সেই বিকেল বেলা
খেলার মাঠে দেখা,
মাঝে মাঝে এক মনেতে
তোরই ছবি আঁকা।
আমি যখন বৃষ্টির দিনে
একলা আকাশ দেখি,
দরজায় তুই নাড়িস কড়া
আমি বলি সেকি।
নিজের তোয়ালে দিয়ে তোর
যত্নে মুছি মাথা,
তুই যে বলিস রাখ তো ছাই
শোননা আগে কথা।
কেরাম খেলায় হারতে যাবো
জিতিয়ে দিস আমায়,
রেড কভারে আমার খুশি
আছে কে যে থামায়।
আমার ভীষণ একলা দিনে
তোকেই খুঁজি রোজ,
কেন তুই হারিয়ে গেলি
নেসনা আর খোঁজ।
ইশকুলের সেই ফটক ছেড়ে
এলাম কলেজেতে,
নতুন বন্ধু খোঁজার তালেই
বছর গেলো কেটে।
শেষ বছরে অকারণেই
হলো ভীষণ ঝগড়া,
বন্ধুহারা কলেজ থেকেই
হলো বন্ধুর খরা।
কলেজ শেষে ভর্তিযুদ্ধে,
হলো নাতো ঠাঁই,
বিদ্যাপীঠের দ্বার বন্ধ হলো
পেলাম না রেহাই।
টাকার বলি পরলো যে হায়,
সহজ পিতার ঘাড়ে।
তবুও সে বন্ধু হয়ে
ফেরায়নি আমারে।
নতুন জীবনে নতুন করে
আবার বন্ধু খোঁজা,
ইসকুলেরই সেই সরল বন্ধু
পাওয়া কি এতই সোজা?
তার ছিলো না কোন চাওয়া
না ছিলো অভিযোগ,
আমার সকল কথার পিঠে
করতো না অনুযোগ।
পরীক্ষণের দিনগুলোতে
আমি যেন সবার ভাই,
বুকে জড়িয়ে কতো আবেগ!
তিন ঘন্টা পর কেউ নাই।
দরকারে যখন অস্থির আমি
কেউ এলোনা এগিয়ে,
তুই থাকলে ঠিকই আসতি
তোর অশ্রু পড়তো বেয়ে।
নুঁয়ে থাকা নিমের তলায়
তুই আছিস শুয়ে,
প্রতিবছরই আসি আমি
দেখতে তোকে অনুনয়ে।
মরে যাওয়া তুই আমার মাঝেতে
বাঁঁচবি সারা জীবন,
বন্ধুত্বের ঋণ চাই না শোধতে
শ্রদ্ধাবোধের স্মরণ।
৭/৫/১৭

Tuesday, April 25, 2017

সুপ্রসন্ন তুমি দূরে

সুপ্রসন্ন তুমি দূরে,
অনুমতিহীন ভাবে যখন তুমি মিথ্যে বলো,
অপ্রকাশ্য তোমার কপটতার ঝুলি
অমিমাংষীত তোমার সহানুভুতি; তোমার বিচার,
তুমি ছিলে সংক্ষেপিত আলোর ঝিলিক মাত্র
এক মুহুর্তের জোনাক, বিমূর্ত করা এক শীতল বিজলী,
হঠাৎ হাসি-কান্নার সহচর; দেখোনি চেয়ে একবারও বর্তমানে,
আমি যে এক রাশ উচ্ছাস ছিলাম, এখন নির্জীব প্রতি পানে
তবুও এই আবহে যেন আমি বদলাই, যেন নতুন করে শিখতে পারি,
নতুন করে নিঃশ্বাস নিতে পারি; নতুন করে, আবারই নতুন করে।

Friday, April 21, 2017

ওনার প্রস্থান

ঈশ্বর ভক্ত হুজুরের আত্মীয়টা অবশেষে আমার উপস্থিতি টের পাইয়া জায়নামাজ খানা গুটাইলেন। তির্যক চোখে চাহিয়া দৃষ্টি আকর্ষণের ব্যর্থ চেষ্টার পর আরাধনালয় ছাড়িয়া অন্যত্র চলিয়া গেলেন। নামিয়া যাওয়ার সময় আপনার মুখ দেখিয়া বুঝিলাম, যতগুলো "মিথ্যাত্মা"র জন্ম আপনি তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে দিয়াছেন, তাহা শুধাইতে মাথা ঠেকাতে আসার পথে আমিই যেন আপনার মাথা আগে ভাঙ্গিয়া দিয়াছি। প্রভুপরায়ণও ক্ষমার্হ চোখে দেখেন কিনা, তা তিনিই ভালো জানেন।

Wednesday, April 12, 2017

প্রতিমূর্ত প্রাণ

ঈশ্বর শুধু তোমার চাওয়া গন্য করলো
সর্বদা সুখের মন্ত্র অকার্যকর আমার শত চাওয়াতেই,
দ্বিমগ্ন হয়ে নিদারুণ কর্তব্য পালন আমি চাই না
তাই হয়ত হারিয়েছি "তুমি" দমকা এক হাওয়াতেই।
আমি পালহীন নৌকা; ঢের জানি
নিঃশঙ্কচে হারিয়ে যাবার ইচ্ছেটাও গভীর,
জোয়ার ভাটার সেই ভালোবাসা আজ ধোঁয়াটে
রঙ্গহীন কাব্যে সব উপাদানও স্থবির।
যে শহরে নেই "তুমি", আছে হারাবার গান
সে শহর বিষাক্ত-বিভ্রান্ত, অনুভূতিরা ম্লান।
দুয়ারে দুয়ারে কড়া নেড়ে ফিরে গেছি কত আগে।
খোলোনি দুয়ার, নিরব থেকেছি, হৃদয় কাটলো দাগে।
ভাল থাকার মন্ত্র জানি, জানিনা সুখী কিনা
ভালো বলেই আমরা কেন বাজাই বিরহের বীণা!
নিত্য সুখীরা দম্পতিময়, দম্ভ থেকেও কম কি?
অব্যক্ত আমি সবখানেই, রুদ্ধতাপে বন্দি।
নই আমি ধর্মরাজ্য নইবা মহাপুরুষ
বিষের বাঁশী প্রতিক্ষণে যেন বাজে,
শক্তিধর আমি যেন নিঃস্পৃহ মাঝে মাঝে।
সেদিনের কথাগুলোতে ছিলো না অগোছালো ভঙ্গি
ছন্দপতন এড়িয়ে যাওয়ার খেয়াল ছিল,
আনমনা ভাব থেকে দূরে ছিলাম
স্থির আর আমার মাঝে থাকতো অসীম মিল।
অবাক করা প্রশ্নবাণে আমি নিঃশ্চুপ
দীর্ঘ হচ্ছে আমার মুহুর্ত,
শেষ বিকেলের গ্লানিটুকু এড়িয়ে যাই
শতেক অনুভূতি তাপে আমি এখন প্রতিমূর্ত।

Sunday, April 2, 2017

ঈশ্বরের অষ্টাদর্শী প্রাণী

ঈশ্বরের সৃষ্টিধর এখনও বিস্ময়ের জন্ম দেয়!
বিস্মিত করা কিছু সৃষ্টি ঈশ্বরের কপোট প্রেমে মগ্ন!
দুনিয়ার সামনে সুচারু সাজে, অসহায়ের কান্না কাঁদে প্রতি আপদে।
নিমগ্ন থাকে অহেতুক অনুতপ্তে। নিঃসঙ্গতা কাটাতে মাথা মোটা প্রাণী খোঁজে। প্রয়োজন শেষে দু'লাইন লেখা কাগজের মত মুচড়ে পেপার ডাস্টবিনে ছোঁড়ে। চিকন বুদ্ধি দিয়ে মাথা মোটাকে বশ করে, কথার যুক্তিতে শক্ত রাখঢাক রেখে মাথা মোটাকে পরাস্ত করে।
আমি ঈশ্বরের সিজদা না করে নরকের বাসিন্দা আর তুমি অষ্টাদর্শী প্রাণী খোদার বন্দনা করে চলে গেলে স্বর্গে...

Sunday, March 19, 2017

অন্ধ

নিয়মের বাইরে যেটুকু পথ খালি চোখে দেখা যায়,
আমি হয়ত তার থেকেও বেশী দূরে চলে এসেছি।
অসীমতাকে পুঁজি করার সাহস পাইনি; মধ্যবিত্ত বলে। এখনকার পথ কঠিন নয়, তবে অভিজ্ঞতাজনিত অবচয় বেশি। ক্ষণেক্ষণেই অপ্রয়োজনীয় স্থবিরতা থামিয়ে দিতে চায় উদ্দীপনাগুলোকে। অবহেলাপূর্ণ টিপ্পনী সয়ে গেছে যেন খালি মানিব্যাগের দূর্বলতার কারণেই।
কিশোর থেকে তরুণে; বিশ্বাসবোধের ধাক্কা গুলো সামলে নেয়া দুষ্কর; নিচ্ছিও। বিচ্ছিন্নতাবোধ জাগাতে চেয়েও পারিনি, সমাজ বিমুখ আমি কেন হবো? ঠিকরে যাওয়া অনুভূতিজাত মন কাঁতরে ওঠে, মুর্হু মুর্হু সংশয় কেন? শক্ত সময়ে একাকী যুদ্ধের কোন নাম আছে কিনা জানি না।
দুঃশ্চিন্তা আর উত্তেজনার মাঝেও নির্বিষ আমাকেই গালমন্দ শুনতে হয়। কারণ উত্তর দেয়ার মত চাতুর্য নেই; ধন্যবাদ ঈশ্বর তোমায়, না দেয়ার জন্য। অনেক অর্জনের পরও শুনি আমার এক ফোঁটা কঠিন পাপ হয়েছে। আর এক ফোঁটা অর্জনের বিনিময়ে পুরোটা দাবী করায় আমি অবাক হয়নি; উঁচুজাতের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য।
খাতা কলমের জোর নেই তেমন একটা। বইভিত্তিক লেখাতে হেরে যাই প্রতিবারই। অভাব কিসের? কৌশলের। যা সবাই তৈরী করতে জানে না। আমিও না।
মাথা ঠেকাতাম আগে ধর্মের কোলে। শান্তির আশ্রয়ে। নির্জীবতার পরে কিছু স্বস্তিও পেতাম, হয়ত এটা ধর্মবোধের স্বাদ। কিন্তু মিথ্যাচার তো সবখানেই। ধার্মিকরা যে আরো বেশি। দোষ ধর্মের না, ধর্মগুরুর।
অন্ধকারময় কোন জগতে আছি, যেখানে আলোর ঝিলমিলে দরুণ আমি দৃষ্টিহীন। অতিরঞ্জিত আলোও অন্ধ করে দেয় মানুষকে। সমাজ নামক কলকারখানার সংজ্ঞায় সচেতন অনুভূতিপূর্ণ মানুষ "অন্ধ"।

Tuesday, March 7, 2017

ঈর্ষান্বিত নই

ঈর্ষান্বিত নই। শুধু ঈশ্বরভক্ত প্রাণীদের অসম আচরণের প্রতিযোগিতা থেকে আমি দূরে থাকতে চাই। ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা নিয়ে তোমরা শান্ত থাকো। ভাগ বসানোর নিয়ত নেই। আমিও ঈশ্বর ভক্ত! কতটুকু? তিনি জানলেই হবে। আমি শুধু জানি আমি সুশ্রী শঠামির মধ্যে নেই। আমি ধর্ম যাজক নই। বিধান বুঝি না। সাধারণ থেকে অসাধারণ হতে চাই না বিধানজ্ঞ হয়ে। শেষ নিঃশ্বাসের আগ পর্যন্ত প্রতিটি নিঃশ্বাসকে সত্য রাখতে চাই, সিংহপ্রাণ থাকতে চাই, সঞ্জীব হতে চাই!

Wednesday, February 22, 2017

রাজনীতির ভাত

আমরা বাঙ্গালী জাতি হিসেবে প্রতিবাদী তবে যথার্থভাবে অধিকার আদায় করতে শিখিনি। অধিকার আদায় করার মূলমন্ত্র চাহিদার সাথে সংযুক্ত বিষয় আর সামাঞ্জস্যতা থাকা। আমাদের '৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে '৭১ মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত আমাদেরই জয়জয়কার ছিল। কারণ দাবিগুলো ছিলো প্রাণের দাবি আর তাতে সামঞ্জস্যতা ছিল। তাই বাঙালীর জয় হয়েছে। আরো পুরোনো ইতিহাস যেমন পলাশির যুদ্ধ, ফরায়েজী আন্দোলন, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ইত্যাদিতে আমাদের কাঠামোগত ভিত শক্ত ছিল না। ঐ সময় কিছু মানুষের বেইমানির কারণেরও বাঙ্গালী জাতি হারতে বাধ্য হয়। সেই বেইমান এখনও বিরাজমান। এখনও আমরা একপ্রকার নীলকরের শাসনে শাষিত-শোষিত। অধিকারের পক্ষে লড়াই করা বন্ধুরা যখন শাসকের দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন আমরা প্রভুর কাছে প্রার্থনায় চোখ ভিজাই, কিন্তু সামনে এগিয়ে আসার কোন চেষ্টা করি না। তখন এক এক করে আমাদের কথা বলার মানুষ আমরা হারাই। আর তরুণ প্রজন্মকে ডাইভার্ট করার জন্য তো প্রযুক্তি আছেই। কল রেট কমিয়ে দিয়ে, কম টাকায় ইন্টারনেট প্যাকেজ দিলেই তারা খুশি। সামনের দিন গুলো অনেক ভয়ানক যখন তরুণেরা তাদের দেশের অভ্যন্তরের খবর না জেনেই বড় হবে। নানান ধরনের চুক্তি আর বৈদেশিক ঋণে জর্জরিত জাতি একদিন আফসোস করবে কেন আরো দেশকে ভালোবাসলাম না? কেন দেশের প্রতিটি ব্যাপারে সজাগ হলাম না? সব কথা রাজনীতির মারপ্যাচে ফেলেই জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে আর আমরাও ঝামেলা মনে করে দূরে থাকছি।

#শেহজাদ_ম্যাক

Wednesday, February 15, 2017

বঞ্চিলো মোরে ক্ষণ্

শেকলে বাঁধা আমার কথা,
বঞ্চিলো মোরে ক্ষণ্
রক্তেমাখা চাদরে চেপে
প্রস্তুত আমার মন্।।
যুদ্ধ তুমি হৃদে বাজো
বর্মে নিয়ে আমায় সাজো
স্বজাত্য মুক্তিতে,
আমায় তাড়ায় আজো।।
ধুলো ঝেড়ে শান তলোয়ার
বাঁধিয়ে কোমরে শক্তে,
অশ্বখুর ধুলোয় কাঁপুক ভয়ে
শত্রুঘ্ন হোক নিরক্তে।।।
- ‪#‎আসিফ_শেহজাদ‬
(১১/০৭/২০১৬) রাত ১.১৩ মিনিট

Friday, February 10, 2017

অনেক সাধ

একটি জীবনের অনেক সাধ
তবে,
দশকগুলো দ্রুতই এগিয়ে যায়।
শতেক অনুরোধ ক্ষয়ে যায় শেষবারে,
সহস্র আন্তরিকতা ম্লান হয় উপসংহারে,
অযুতে গিয়ে কাউকে খুঁজে ফেরা,
লাখো স্বপ্নংকুর ধ্বংস হয় তোমার কারণে,
নিযুতে থমকে দাঁড়ায় "স্ব" নিঃশ্বাস!
কোটিকল্পে বেঁচে থাকে শুধু আফসোস আর স্মৃতিরা!

Thursday, February 9, 2017

হয়ত কেউ আমিও একজন

কোন রঙহীন মহলের সমাবর্তন
অদেখা যেন সমীচীন আলোর কুণ্ডুলি
আমি শেষার্ধ বিশ্বাসের মিছিলে কোন ভ্রান্ত পথিক।
যে শুধু স্বপ্নই দেখে, রঙ্গমহল গড়তে চায়।
সবাই আমোদিত সেই মহলে, আমার গড়া মঞ্চে কেউ মলিনবিধুর নয়।
সবাই সুখ্যাতির আলোতে পরিবৃত্ত।
আমি নেই সেখানে, আমার কেউ নেই সেখানে।
সবার অমলিন হাসিতে রয়েছি আমি।
আমি সেখানেই বাঁচি।
এর নামই "হয়ত কেউ আমিও একজন।"

Saturday, January 7, 2017

ভালো থেকো

জানোই হয়ত স্বর্গীয় সুখ আর নরকের নারকীয়তা ভেতরটা স্পর্শ করে না। স্বর্গলোক থেকে স্বপ্ন দেখাতে ঘুমের মধ্যে এসো না। দিন শেষ শুধু কোলাহলমুক্ত থাকাটাই আমার কাছে স্বর্গ। আর আরেক স্বর্গের দুনিয়া "মা"। হয়ত তাঁর ভালবাসায় এই পাপী বেঁচে আছে। আকাশ ছুঁতে চাই এই ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানাতে।
আর কখনও সামনে এসো না, স্বপ্নেও না; ধর্মীয় চাদর আচ্ছাদিত হয়ে। তোমার সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার কিছু চাওয়ার নেই। যেই দুনিয়ায় থাকো, ভালো থেকো।

Monday, January 2, 2017

অজানা গল্প

কিছু গল্পের কোন নাটকীয়তা নেই,
কিছু নিঃশ্বাসের কোন মানে জানা নেই,
কিছু জীবনঘনিষ্ঠ প্রশ্নের কোন উত্তর নেই,
কিছু ভাল থাকার মিথ্যে অভিনয়ের কোন সংজ্ঞা নেই।
আর দেয়ালের ভেতরের গল্পটা সবারই তো অজানা!

Sunday, January 1, 2017

পথ চলা

অনেক ভুল ছিল, পিছুটান এখনও ছাড়েনি।
দৈন্যদশা এখনও বর্তমান।
নিমগ্ন হতাশায়।
জরাজীর্ণ কিংবা বিভাজিত হৃদয়।
তারপরও স্বপ্ন দেখবো,
আমাকে দেখতেই হবে।
আমাকে চলতেই হবে।
নতুন দিনে, নতুন প্রত্যাশায় হোক নতুন করে পথ চলা।

নতুনে ভুলি নাই

তুমি ফুরায়ে গিয়েছো কবে আমিতো চলে যাব; বলে, থেকে রয়েছি এতক্ষণ হারিয়ে যাবার গল্পে কে আগে? কে পরে? শুন্য আকাশ তলে আমি একজন, একা। তোমারি আশাতে ছ...