Friday, August 31, 2018

মানসিক শক্তি

হয়তবা তখন উন্মুক্ত চিন্তা ঝাঁপিয়ে বেড়াতো। মুক্ত একটা আকাশে নিজের ইচ্ছেগুলো ছড়িয়ে দিবো, ক্যানভাস বানাবো সেই আকাশটাকে। বড় বড় চুল, সাথে গিটারের মূর্ছনায় গলা ছেড়ে একটার পর একটা গান হবে। যেখানে নতুন প্রেমের উচ্ছ্বাসে ঘুম হবে না। পাশেই বন্ধুদের তাশ খেলা চলবে। গিটার রেখে চাদর মুড়ি দিয়ে শীতের রাতে আবাসিক হল থেকে বের হয়ে এলাকার পুরোনো চায়ের দোকানে গরুর সরের চা খাব। হলে ফিরে ২-৩ ঘন্টার মরা ঘুম আর তারপর তড়িঘড়ি করে ক্লাসে গিয়ে স্যারের বকুনি শুনে ক্লাসের বাইরে পায়েচারী। ক্লাস শেষে বন্ধুদের নিয়ে নোটগুলো রেডি করা আর দুপুরে ২০ টাকায় নিজের উদরপুর্তি। খাওয়া শেষে ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় গাছটার নিচে বিশ্রাম নেয়া আর পোড়া মনে একটা গানের সুর তোলা। শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখা আর তাঁকে অনুভব করা। নিজের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটিকে ভালো লাগা কিন্তু কখনই তাকে না বলা। রাত ৩টায় বন্ধুর অসুস্থ হয়ে যাওয়া আর বাকী রাতটা হাসপাতালের চেয়ারেই তার জ্ঞান ফেরার অপেক্ষা। চোখ খোলার পরই ঠাস ঠুস দুটো চড় দেয়া ; কান্নাভেজা কন্ঠে তাকে ঘুমের ওষুধ না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করানো......
_________________________________

একাডেমীক দূর্বলতায় হয়ত স্বপ্নগুলো বাস্তব হয়নি। অধরা সপ্নের মাশুল গুনতে হয় আর সেটাকে চেপে দেয়া যায় না। নিজের মানসিকতাকে বিস্তর পর্যায়ে রাখতে বিশালতা দরকার। বিশাল আকাশ যে দেখেনি সে কখনই এর মর্ম বুঝবে না। "সবাই আমার কাছে সমান" এই কথাটুকু খুব কমই শোনা যায়। আর ২ থেকে ৩ জনের মুখে এই কথা শুনেছি। সবাই বলতে পারে না এই বড় কথাটা। বললেও সেটাকে ঠিক রাখতে পারে না। মনুষ্য চিন্তনে শুধু ঠেলে পিছে পাঠানোর প্রতিযোগিতা চলে। দৌড়াতে গিয়ে ল্যাং মারা বা হাডুডু খেলায় পারদর্শিতা এখানের যথেষ্ট উদাহরণ। নিজে নিজে এক প্রকার "দম্ভ খেলা"র উত্থান করা আর বসে বসে সেটাকে উপভোগ করাটা; হীনমন্যতার আরেকটা বৈশিষ্ট্য। নিজের আখের ঠিক রেখে বাকী দুনিয়ার অশান্তি শান্তিতে অনুভব করার নগ্ন চরিত্র রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। আমাদের চিন্তার অপরিপক্কতা আর অসষম জীবনাচরণ থেকে পরের প্রজন্ম সেই দুশ্চরিত্র মনোভাব অর্জন করবে। জাতিগত ভাবে হয়ত এইকারণেই আমরা পশ্চাদপদতায় ভুগছি। যখন একটা প্লাটফরমেই আমাদের অসষম আর হীন প্রতিযোগিতা, জোটবদ্ধ হয়ে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হয় সেখানে আর যাই হোক জাতির অগ্রদূত তৈরি হয় না। হাস্যোজ্জ্বল আর প্রাণোচ্ছল একটা গণ্ডি হারিয়ে যেতে বসে। স্বভাবতই সেখানে কিন্টারগার্ডেনের মত ভালো ফলাফল নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগে কিংবা পুরাতনদের বিদায়ে নতুন চাটুকারদের উপস্থিতি তৈরি হয়। ঠিক যেন দেশীয় রাজনীতির প্রভাব; সবখানেই চর্চা চলে।
আশংকার জাল মনে দানা বেঁধেছিলো আজ থেকে আরো কয়েক বছর আগে। সেটাই সত্যি হতে চলেছে। তবে কিছু কাঙ্ক্ষিত বা অনাঙ্ক্ষিত মায়াজাল আমাদের বেঁধে রাখে। আর তাদের জন্যই হয়ত "সাহস" হারিয়ে যায় না। উপরন্তু, প্রতিরোধের শক্তি হিসেবে কাজ করে এবং আরো শক্ত করে তোলে।

Wednesday, July 11, 2018

পতিতা

হারায় সকাল হারায় সতেজ
একাগ্র একাকীত্ব,
শতেক বার লাঞ্ছিত সে
হারায় সতীত্ব।
সুশীল সমাজ একঘরে করে
দেয় বার বার গালি,
আঁধার হলেই কিছু সুশীল
মদের দোকানে হাতে তালি।
অনেক কঠিন পাথর চেপে
কেউ নামে এই পথে,
কার মন চায় নিম্ন হতে
লালসা কামনা ছুঁতে?

বিয়ের পর যেই বঁধুর
ঘর বাঁধার ইচ্ছে,
যে-ই স্বামী তার দেখালো স্বপ্ন
সে-ই কুঁড়েকুঁড়ে খাচ্ছে।
মিথ্যে জবানবন্দি দিয়ে
বেঁধে রাখে একঘরে,
"সর্বনাশী তুই" আখ্যাকারীদের
অপেক্ষায় থাকে বাইরে।
ভালো হবার সকল পথ
বন্ধ হবার পথে
কার মন চায় নিম্ন হতে
লালসা কামনা ছুঁতে?

শিশুর মুখের রুটি জোগাতে
কাজের খোঁজে হয়রান,
শেষমেষ নিজে বিক্রি হয়ে
সয়ে যায় অপমান।
দিনশেষে তার মাতাল স্বামী
ঘরে এসে নেশা ধরে,
যাচ্ছেতাই গালিগালাজে
তুলোধোনো করে মারে।
দুচোখ মুছে ছোট শিশুটি
দরজার কোনে দাঁড়িয়ে,
বড় শহরের বড় মাস্তান হয়ে
ঠিকই গেছে হারিয়ে!
ভালো হবার সকল পথ
বন্ধ হবার পথে,
কার মন চায় নিম্ন হতে
লালসা কামনা ছুঁতে?
(আসিফশেহজাদ)

Wednesday, June 27, 2018

বন্ধুত্ব

ভালো থাকার মুহুর্তগুলো, চোখেতে মোর ভাসে।
বেঁচে থাকে স্মৃতি হয়ে, সুনীল সে ক্যানভাসে।
আলোর ঝিলিক স্পর্শ করে, হাতের পশমে
মিশে আছিস সবাই তোরা, হৃদয় মরমে।
দু'একটা রাগের কথায়, ছিলো ভালোবাসা
হঠাৎ করেই যাসনে ভেঙ্গে, ছেড়ে এত আশা।
বন্ধু সে তো যায় ছেড়ে থেকে যায় প্রাণে,
বেঁধে রাখে মোরে, অচেনা সূরে।
হাঁটে না বহুদূরে।
বইয়ের ভাষাতে বিদ্বান কেউ, কেউবা বুদ্ধিমান,
কারো আছে জমিদারি, জারি করে ফরমান।
কেউবা আবার নেতার সমান, বলে কত উক্তি,
চায় সে সকলের সম্মানটা, করুক তারে ভক্তি।
বন্ধুর মাঝে কেউ নেই উঁচু, যদি জানে সংজ্ঞা
বন্ধুর মাঝে হয়না কখনো, দ্বিধাময় দাঙ্গা।
বন্ধু সে তো যায় ছেড়ে থেকে যায় প্রাণে,
বেঁধে রাখে মোরে, অচেনা সূরে।
হাঁটে না বহুদূরে।

Tuesday, June 26, 2018

আমাদের আমরা


অভিজ্ঞতার জোরে
সায়েম হয়ে গেলো কাকা,
অনিক নামের সেই ছেলেটা
রয়ে গেলো আজও বাঁকা।
তারেক আবার নতুন করে
খোঁজে প্রেমের মওকা,
আরাফাতের বাসার সবাই
ডাকে তারে বোকা।
রাকিব মিয়া গাজা খায়
কিন্তু চালাক খোকা।
জান্নাত শুধু আচার পেলেই
হয়ে যায় তার পোকা,
রাফা নামের সেই মেয়েটার
ব্যাগে কেন এত টাকা!
লিজা বানায় ফিরনি-নুডুলস
এতে সে যেন পাকা।
আমি নামের সেই ছেলেটা
রয়ে যাই শুধু একা।

Thursday, June 7, 2018

জীবন যখন

জীবন যখন জড়িয়ে যায়,মায়ার আবডালে,
জীবন্ত সেই স্বত্তাগুলো, প্রেমের পাখা মেলে।
জীর্ণ মনে বারবার বলে, কোথায় পাবো ঠাঁই,
জিদ চেপে যায় মনের দেয়ালে, তোমাকেই আমি চাই।
জিতে যাওয়া তুমি আজ, ভালো থাকবে কাল-ও
জীর্ণদশা আবার ছোঁবে, প্রেমময় সব হারালো।

Friday, May 11, 2018

মন তুষ্টি

আমার কাছে যা সহজ আর সাবলীল তা সমাজের কাছে অর্থ উপার্জনের মূল হাতিয়ার না। "ভাল গানের গলা, খন্ডকালীন অভিনয় বা লেখালেখি দিয়ে পাঠকের মন তুষ্টি অর্জন" এসব দিয়ে কি আর অর্থ সম্পদের মুখ দেখা যায়? তবে সম্মানটা টাকা দিয়ে কেনা যায় না।

Sunday, May 6, 2018

পোড়া ধূপ

হাজার ভিড়ের মাঝে তুমি,
হে মোর প্রমীলা দেবী,
সূর্য ভেবে পরম সুখে
আপন করলো কবি।

না বলা এক ভালবাসা
গড়ে দিলো বুক জুড়ে,
কবির জবানে প্রস্তাব দানে
উড়ে গেলো সব ঝড়ে।

চুপসানো মোর ভালোবাসা হায়
লুণ্ঠিত দুয়ারে তোমার,
আমরা তো ভাই অজাত সংসারী
সামলাই মোরে আবার।

গানের মাঝে তোমায় রাখি
ভাবো; সবই সত্য কিনা!
মিথ্যার সাথে লড়েছি বলেই
আজ বিত্ত-বৈভব বিনা।

আমার সরল কাশবন আজ
লুটায়ে তোমায় পায়ে,
তুমি রেগে বলো করছো একি!
ডানে যাবে নাকি বাঁয়ে।

যে হরিনীর চোখ আমার
মন নিলো যে কেড়ে,
ফিরিয়ে দেবে অনাথ হেতুতে
কি ভীষণ; হাল ছেড়ে!

রাতের আঁধারে আমার শুভ্রা
কিংবা প্রমিলা দেবী,
ভালোবাসবো কারেই বলো?
ভেতরেতে যার ছবি?

ছবির মতন দেখেই বলে
আসলাম কত আশায়,
ফেরার জন্য কিছু লাগে না
ভবিষ্যৎ নিয়ে শাসায়।

চোখের প্রেমে মগ্ন আমি
হাত বাড়িয়ে আমি তখনও,
তুমি বলো; পথ ছাড়ো নি?
নিচুমান তুমি; বসে আছো এখনও।

শুভ কামনা করি না তোমার
বলি; বেশি ভালো থাকো খুব,
আমার ছায়াটি মুছে যাক আজি
হয়ে থাক পোড়া ধূপ।

৫/৫/১৮

Sunday, April 22, 2018

আত্মজ্ঞানী

প্রত্যেক মানুষের একটি কেন্দ্রীয় আত্মজ্ঞানের ভাণ্ডার থাকে। আত্মজ্ঞানীরা সমাজের ক্ষতিকর প্রাণী হয় না। কারণ অভিজ্ঞতা ও বয়স তাকে তিক্ত পরিস্থিতিতে ফেলে শিক্ষা দান করে। সমাজের কীট-পতঙ্গ চিনতে সহায়তা করে। দরুণ পরিণতি থেকে উদ্ধার হওয়া শেখায়। আর সঙ্গী হয়ে সহায়তা করে "সময়"। নিজেকে কিছুই করতে হয় না। সব কিছুর উত্তর "সময়" প্রদান করে। এটা প্রকৃতিগত সৃষ্টিশীলতাও বলা যেতে পারে। একদিন সব বদলে যাবে সেই আত্মজ্ঞানের সাধনে। তখনই মূলত উপঢৌকন ও উপলব্ধি কে আলাদা করা যাবে। হয়ত উপলব্ধিকারীকে "সময়" কোন সহায়তা দেবে না। আত্মজ্ঞানের সাধকরা এই আশাটুকু করতেই পারে।

আত্মজ্ঞানের ইতিকথা

প্রত্যেক মানুষের একটি কেন্দ্রীয় আত্মজ্ঞানের ভাণ্ডার থাকে। আত্মজ্ঞানীরা সমাজের ক্ষতিকর প্রাণী হয় না। কারণ অভিজ্ঞতা ও বয়স তাকে তিক্ত পরিস্থিতিতে ফেলে শিক্ষা দান করে। সমাজের কীট-পতঙ্গ চিনতে সহায়তা করে। দরুণ পরিণতি থেকে উদ্ধার হওয়া শেখায়। আর সঙ্গী হয়ে সহায়তা করে "সময়"। নিজেকে কিছুই করতে হয় না। সব কিছুর উত্তর "সময়" প্রদান করে। এটা প্রকৃতিগত সৃষ্টিশীলতাও বলা যেতে পারে। একদিন সব বদলে যাবে সেই আত্মজ্ঞানের সাধনে। তখনই মূলত উপঢৌকন ও উপলব্ধি কে আলাদা করা যাবে। হয়ত উপলব্ধিকারীকে "সময়" কোন সহায়তা দেবে না। আত্মজ্ঞানের সাধকরা এই আশাটুকু করতেই পারে।

Tuesday, April 10, 2018

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে কিছু কথা

আন্দোলনটা কোটা বিরোধী নাকি কোটা সংস্কার সেটা নিয়েই তো কোন্দল। আর মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে হাসাহাসি করছেন কিংবা উপহাস করছেন সেটার কোন যৌক্তিক কারণ আছে কি? শারীরিক প্রতিবন্ধী কিন্তু মেধা আছে। তারা কি চাকুরী পাবে না? তবে হ্যাঁ কোটা পদ্ধতির সংস্কার দরকার। ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটার বেশিরভাগই শুণ্য কোটা থেকে যায়।আর আমিও একজন মুক্তিযোদ্ধার গর্বিত দৌহিত্র। এডমিশন পরীক্ষাতে কোটা ব্যবহার করিনি। করলে হয়তো চান্স পেতাম। যোগ্যতার অভাবে ভর্তিযুদ্ধে হেরে যাই। তবে অন্তত মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে উপহাস না করা উত্তম। কারণ সেই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার দাদা, নানা হারায়নি, হারিয়েছে ঘরবাড়ি হারিয়েছে সব। ঠান্ডা মাথায় ভাবুন আর সংস্কারের আন্দোলন করুন, মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে নয়।

Monday, April 9, 2018

একা

দিন-খন একা যার, নির্ঘুম একা তার
যখন বিছানায় পড়া,
কথাহীন কাব্য, অলিখিত শ্রাব্য
যখন আমি আধমরা।
চেনা সুখ অচেনা, অপেক্ষারা ঘোচেনা
কবে যাবো বাড়ী,
সুন্দর সুস্থ, সকাল কবে দেখবো
দেখবো কাজের সারি।

ব্যস্ততা ভালো রাখে,
সব থেকে খুব
অশান্তির মৃতমেলা
থেকে দেয় ডুব।
9/4/17

Wednesday, April 4, 2018

নারী

নরম কথার সাধক সেজে
নিয়মিত নারী নত,
নরক হয়ে দেখিয়ে দিলে
নিঠুর হায়রে কত!

নম্র আচার ব্যবহারে
নিরব প্রতিশোধ,
নর জাতির শক্ত ভাঙ্গা
নিয়তিরই অবোধ।

নখ তোমার প্রখর খুব
নিন্দা করা ভুল,
নম হাতে কবুল করে
নিলামে আজ মূল।

নন্দিত আজ অবলাজাতি
নিন্দিত কেন নর?
নতুন গানে নেচে বেড়ায়
নিকষ কালো জড়ো।

নবাবজাদি জুটলে ভাগ্যে
নিরবে বাঁচা মরা,
নম্র হয় নর জাতি
নিত্য শোষণে ধরা।

নসিবে কার কি যে আছে
নিমেষ নাকি সুখ,
নবাগত যে আসবে আমার
নিষ্পাপ তোর মুখ।

নব আলোয় কামনা আমার
নিত্য হোক চলাচলে,
নবাব হয়ে বেড়ে ওঠ তবে
নিয়মিত প্রাণাঞ্চলে।
২১/০৪/১৮

Thursday, March 29, 2018

ফেরা

(উৎসর্গ: Alamin Sikder Tasfin Ashraf)

ব্যথিত মনে সুজনের ঘরে
আসিলাম হুট করে,
মোরে দেখিয়া সুজন আমার
হইলো ব্যস্ত আহারে।

কতকাল যেন দেখিনি তোরে
চোখের মনিতে লাল রেখা,
এতকাল পরে পাহিলাম আমি
হবি না তুই আর একা।

ঘুরে দেখিলে পাইবি প্রাণ
আমার গ্রাম কূলে,
শতেক সবুজ আর মাঠ-প্রান্তর
বসবি বটের মূলে।

রুপোর জল খুঁজে পাবি তুই
যেখানে আছে নদী,
আহত মন তোর হয়ে যাক আজ
প্রিয় প্রাণ আমোদী।

আসিলাম আজ আপন কর্মে
পাইলাম নব সুখ,
কিভাবে দিবো প্রতিদান তোর
এঁকে চন্দন মুখ?

অশনি কাটিতে জীবন যখন
নূহ্য যেথাসেথা,
তখনি প্রাণ পাইলাম ফিরে
লিখে রাখলাম এই কথা।
২৯/০৩/১৮ইং
বিকেল ৫.১









Wednesday, March 28, 2018

ধ্রুপদী ধৈর্য

যাচ্ছে ক্ষয়ে যাক না বয়ে
শুকনো সেই নদী,
জোয়ার ভাটায় পূর্ণ ছিল
ছিলো নিরবধি!

বৃষ্টির জলে হয়না পুরণ
অবাক সেই নদী

বুঝেই তো হওনি আমার
মিলেয়ে লাভ-ক্ষতি
জোয়ার ভাটা হারিয়ে গেলো
হায়রে নিয়তি

বিষাদকাহন হলো সূচন
আহত অবধি

[হারানোর গল্পটা
কেউ যে জানে না
চেনা মানুষ হঠাৎই
হয়ে যায় অচেনা
রিমঝিম সেই বৃষ্টি
আর বহু শব্দের বজ্র
গড়েছে এখন যেন
ধ্রুপদী ধৈর্য।]
২৮ মার্চ,১৮

Saturday, March 24, 2018

ইচ্ছে সবুজ

ইচ্ছে সবুজ, যেন চিরপ্রাণময়
অন্তদহনে কেন, ক্ষণপ্রাণ ভয়?
ছড়িয়ে আবেশ সত্যাপনের
পুড়িয়ে ছল মিথ্যে মনের।
সরব যেন বাঁচার আকুতি
মরে বেঁচে কার কি ক্ষতি।
সবুজ বাঁচাই মনের সবুজ
এখনও সে যে বড়ই অবুঝ।
দিন দুনিয়ার হালচাল কি
অবুঝ মনে সবই না মেকি।

সব বন্ধুর জেনেও যেন
অচেনাকে ভালোবাসা,
চেনা হয়ে ফের অচেনা
এ কেমন দ্বিত্ব ঠাসা।

এখনও প্রাণ আছে, সেই সবুজবাগে
ঠাঁই নেই ক্ষেদ, কিংবা অনেক রাগে।
হারায় না কোন পুরোনো গল্প
আসে যায় দু'এক রঙ্গিন অল্প।
অন্ন জুটবে না, সেই ভয়ে ফেলে।
অন্নপূর্ণা হয়ে, মেশে আলোর জলে।
বড় ছেদ, এঁকে হৃদপটে
যার যায়, দিল তার টুটে।

এত কালো জেনেও যেন
অচেনাকে ভালোবাসা,
চেনা হয়ে ফের অচেনা
হারাই আমার ভাষা।
২৪/৩/১৮

Thursday, March 22, 2018

এক ও অন্য

এক শহরে সুখের বৃষ্টি
অন্য ঘরে ঝড়,
এক মনেতে আশার আলো
অন্য হৃদে জ্বর।
এক সময়ে ভালো থাকা
অন্য মূহুর্ত কালো,
এক গ্রহেতে স্বর্গীয় প্রাণ
অন্য পুঞ্জে হারলো।
এক বাগানে ফুলেল সুভাস
অন্যপাশে জঞ্জাল,
এক আকাশে অনেক তারা
অন্য-কাশে বেড়াজাল।
এক যে দূরে তুমি কোথায়
অন্য কারো দেবী,
এক সে আমি হয়নি কারো
অন্য সুখের চাবী।
এক সে তুমি কথা দিয়েছিলে
অন্য আমি আশায়,
এক যে আমার কথাটুকু আজও
অন্যতম ভালোবাসায়।
এক সে সুদিন আসলো না আজও
অন্য পাশে সুখ,
এক যে আঁধারে আটকে গেছি
অন্য এক দুঃখ।
২২/৩/১৮

Thursday, November 9, 2017

সইছি অবহেলা

জলাঞ্জলি দিয়েই না হয়
নতুন কোন সকাল,
অনেক সন্ধ্যা যাক কেটে যাক
স্বপ্ন না হোক অকাল।
বারংবারই অপবাদ আর
মিথ্যে নিয়ে খেলা,
প্রভু তুমি দেখছই তো
সইছি অবহেলা।
ধৈর্য নিয়ে টিকে থেকে
হাসি মুখে হারা,
সময় আমায় মারছে যেন
সপাটে চাবুক দোরা।

Tuesday, October 31, 2017

গল্পে তুমি

গল্পে তুমি চাইছো যখন সবকিছুতে বিয়োগ,
হার না মেনে বারবারই আমি খুঁজি যাই সুযোগ।
চোখের ভাষা আড়াল করে যাই যে প্রতিদিন,
আমার প্রতিমুহূর্তের পরীক্ষাগুলো খুব যে কঠিন।
মোহের বয়সতো নেই যে আর ডুবে থাকব প্রেমে,
হৃদয় গ্রহে জায়গাটুকু তোমার যাবে না যে কমে।
স্বপ্নিল এক রাজ্যে গড়েছি আমার রাজমহল,
চাইলেই কেউ পারবে না, হতে দেবো না দখল।

Friday, October 27, 2017

ঘেন্না জাগে

ক্ষণে ক্ষণে মনে দামামা বাজে
বৃদ্ধ-জ়োয়ান যুদ্ধে জাগে,
শশান ঘাটের লাশ পুড়িয়ে
আমার তান্ডব থামে।

তোর মৃত্যুর পর ছিঁড়ে দেই
দুটি চোখের কোঠর,
তুই অপরাধী খুব তাই বলে মোর
ভাঙ্গে না রাগের জঠর।

তোর শেষ নিঃশ্বাসের পরেও কাঁটি
সারা সর্বাঙ্গ,
তবে যথাসুখের আশ্রয় ছিল
আমি পাশান অনুসর্গ।

ধ্বংসযজ্ঞ শেষে করে যখন
ছেঁড়া হাত পা কুড়াই,
মনে মনে খুব ঘিন্না জাগে
তোকে এভাবেই পাড়াই।

Tuesday, October 17, 2017

পাগল

শুকনো রুটির শক্ত লোকমায়
একটু খানি গুড়,
পথের ধারে স্বচ্ছ জলে
পিয়াস করলো দূর।
জরাজীর্ণ জামার ভাঁজে
হাজার তালি ছাঁপ,
পুরানো হাতের লাঠি
তার হাজার পরিতাপ।
একমনেতে হাসে আবার; এক মনেতে কাঁদে
ঘুমের জন্য পায়না জায়গা; ঘোরে রাত বিরাতে।
বাস্তুহারা সেই বুড়োকে ডাকত
কেউ বা পাগল,
কারো দেয়া খাবার পানিতে
সামলাতো না বার্ধক্যের ধকল।

নতুনে ভুলি নাই

তুমি ফুরায়ে গিয়েছো কবে আমিতো চলে যাব; বলে, থেকে রয়েছি এতক্ষণ হারিয়ে যাবার গল্পে কে আগে? কে পরে? শুন্য আকাশ তলে আমি একজন, একা। তোমারি আশাতে ছ...